ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ , ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃত্রিম জ্বালানী সংকট: চরম ভোগান্তিতে হাতিয়ার যাত্রীরা

আপলোড সময় : ১৭-০৩-২০২৬ ০২:৩১:২৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৭-০৩-২০২৬ ০২:৩১:২৯ অপরাহ্ন
কৃত্রিম জ্বালানী সংকট: চরম ভোগান্তিতে হাতিয়ার যাত্রীরা কৃত্রিম জ্বালানী সংকট: চরম ভোগান্তিতে হাতিয়ার যাত্রীরা
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
স্পিড বোট চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ঈদ যাত্রীরা। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা।

জানা যায়,ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম জ্বালানী সংকট তৈরি করায় হাতিয়া উপজেলায় স্পিড বোট চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দ্বীপাঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাট পর্যন্ত এই রুটটি হাতিয়ার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন শত শত যাত্রী দ্রুত যাতায়াতের জন্য এই স্পিড বোটের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু হঠাৎ করে গত দুই দিন ধরে সব স্পিড বোট বন্ধ থাকায় যাত্রীদের অনেককে বিকল্প ধীরগতির নৌযান ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় বেশি লাগার পাশাপাশি দুর্ভোগও বেড়েছে।

নলচিরা স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, জরুরি কাজে প্রায় প্রতিদিনই এই রুটে যাতায়াত করে জেলা শহর মাইজদীতে যেতে হয়। কিন্তু স্পিড বোট বন্ধ থাকায় এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় নৌযানই মানুষের প্রধান যাতায়াত মাধ্যম। সেখানে যদি জ্বালানি সংকটের কারণে স্পিড বোট বন্ধ থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।

স্পিড বোট চালক মনির হোসেন বলেন, ঈদ সামনে থাকলেও স্পিড বোট বন্ধ থাকায় কয়েকদিন ধরে তাদের কোনো আয়-রোজগার নেই। তিনি বলেন,সারাবছর কষ্ট করে কাজ করি পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। কিন্তু এখন আয় বন্ধ থাকায় পরিবারের জন্য বাজার করা তো দূরের কথা, ছেলেমেয়েদের জন্য ঈদের নতুন কাপড়ও কিনতে পারছি না। এতে খুব কষ্ট লাগছে।আমরা অল্প বেতনে কাজ করে কোনোভাবে সংসার চালাই। এখন জ্বালানি সংকটে স্পিড বোট বন্ধ থাকায় আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। আমার উপার্জনের ওপরই পুরো পরিবার নির্ভর করে। আয় না থাকায় পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি।

হাতিয়া চেয়ারম্যান ঘাটের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী এস এম চৌধুরী ট্রেডার্সের মালিক জাফর চৌধুরী দিনু জানান, প্রায় ৮–৯ দিন আগে ডিপো থেকে তেল আনার জন্য তারা গাড়ি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল পাননি। পরে জানানো হয় হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে লিখিত অনুমতি ছাড়া তেল দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন,নিয়ম মেনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করে ডিপোতে জমা দিয়েছি। কিন্তু এতকিছুর পরও এখন পর্যন্ত এক ফোঁটা তেলও দেওয়া হয়নি।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : NewsUpload

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ